শারমিন মুস্তারি

আবহাওয়ার এই সময়টাতে অনেকেরই চুল পড়া বেড়ে যায়। এছাড়াও আমরা অনেকেই জানি যে জীবনে স্ট্রেস বাড়লে চুল পড়া বাড়ে। আর কার্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন এই দুটি হরমোনের ঘাটতির কারনে স্ট্রেস, খিটখিটে মেজাজ হয়। যখন শরীরে স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব বৃদ্ধি পায় তখন চুলের কোষেও তার প্রভাব পড়ে। আর একারনেই চুলের গোড়া আলগা হয়ে যায় এবং চুল পড়া বাড়ে। চুলের যত্নে কফি পাউডার এই চুল ঝরে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। যে সব পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ বেশি, তাঁদেরও কিন্তু এই কারণেই চুল বেশি পড়ে।
দীর্ঘদিন শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার সিরাম ইত্যাদির ব্যবহারে স্ক্যাল্পে পাতলা আস্তরণ পরে। শ্যাম্পু করলেও দ্রুত যায় না। এর জন্য প্রয়োজন কোনও স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েটারের। এবং তা হতে হবে খুবই নরম। নাহলেই চুল পড়তে পারে। এক্ষেত্রে কফি আর্দশ। কফির দানা খসখসে, অথচ পানিতে মিশালে গুলে যায়। ফলে স্ক্যাল্পের কোনওরকম ক্ষতি না করেই স্ক্যাল্প করে তোলে ফ্রেশ। একটা বাটিতে এক টেবলচামচ কফি, এক টেবলচামচ চিনি এবং পরিমাণমতো নারকেল তেল মিশিয়ে পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন। শ্যাম্পু করার আগে এই মিশ্রণ দিয়ে স্ক্যাল্প আলতো করে মাসাজ করে নিন। স্ব্যাল্প পরিষ্কার ও সতেজ থাকবে।
আরও একটি হেয়ার মাস্ক হলো পাঁচ চামচ খাঁটি নারকেল তেলের সঙ্গে দু চামচ কফি পাউডার মিশিয়ে নিন। এই মাস্ক সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করুন। মাথায় ২০ মিনিট রাখতে হবে। এছাড়াও আমলকির গুড়ো, অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল আর কফি একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে হেয়ার মাস্ক বানিয়ে নিতে পারেন। এতে চুলে আলাদা একটা রঙ তৈরি হবে পাশাপাশি খুশকির সমস্যাও কমবে।
চুলে জেল্লা আনতে
কফি চুলে জেল্লা আনতেও কার্যকরী। নিয়মিত কফির ব্যবহার স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখারা পাশাপাশি চুল চকচকে করতেও সাহায্য করে। গোসলের সময় ঠান্ডা কফির লিকার দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। কয়েকদিন ব্যবহার করলেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
হেয়ার কালার দীর্ঘস্থায়ী করতে
কফি চুলের কালচে রঙ আরও গাঢ করতেও সাহায্য করে আবার চুলে কোনও রকম কালার করা থাকলে তাও দীর্ঘস্থায়ী করে। পছন্দের কন্ডিশনারের সঙ্গে সামান্য টাটকা কফি লিকার মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর স্বাভাবিকভাবে চুল ধুয়ে নিন।