খোঁপায় তারার ফুল

খোঁপায় তারার ফুল

মেয়েদের চুলে ফুল পরার বর্ননা খুঁজে পাওয়া যায় সমকালীন সাহিত্যে। শাড়ি, সালোযার কামিজ, কুর্তি, লেহেঙ্গা কিংবা পাশ্চাত্য পোশাক সবকিছুর সঙ্গেই সঙ্গে নানাভাবে ফুল পরার রেওয়াজ অনেক দিনের। সাজের নান্দনিকতা অনেকটাই ফুটে ওঠে চুলে ফুলের সাজে। ফুলের ধরন ও পরার কায়দা একটু বদলে নিলেই সাধারণ সাজও হয়ে উঠতে পারে আলাদা ও অনবদ্য। ঋতুতে ঋতুতে যেমন নানা ধরনের ফুল ফোটে তেমনি সেসব ফুল দিয়ে সাজও হয়ে ওঠে অনন্য। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

 বেলির সুবাসে

বেলি ফুলের সঙ্গে বাঙালি নারীর সাজের সম্পর্ক বহু পুরোনো। বেলির মালা খোঁপায় জড়িয়ে নিলে সাজে আসে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, সঙ্গে থাকে মিষ্টি সুবাস। শুধু শাড়ি নয়, কুর্তি বা অন্য পোশাকের সঙ্গেও বেলির মালা মানিয়ে যায়। বেণির সঙ্গে বেলির গাজরা জড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। চাইলে বড় ফুলের সঙ্গে ছোট বেলকুঁড়ি গেঁথে খোলা চুলেও ব্যবহার করা যায়। যে কোনো অনুষ্ঠানে এই সাজ হতে পারে সহজ অথচ আকর্ষণীয়।

কানে গোজা গোলাপ

চুলের সাজে গোলাপের আবেদন কখনো পুরোনো হয় না। লাল, সাদা, হলুদ কিংবা গোলাপি  কিংবা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বিপরীত রঙের গোলাপ বেছে নেওয়া যায়। খোঁপার পাশে একটি-দুটি গোলাপ গুঁজে দেওয়া সবচেয়ে সহজ সাজ। তবে একটু আধুনিক লুক চাইলে পুরো খোঁপা না করে পেছনে ঢিলেঢালা মেসি খোপা করে বাঁধা চুলের এক পাশে কয়েকটি গোলাপ সাজিয়ে নিতে পারেন। খোলা চুলে হালকা কার্ল করে ছোট ছোট গোলাপ দিয়ে ব্যান্ড তৈরি করে পরা যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে পুরো খোঁপা সাজানোর চল অনেক দিনের । আর একটু সাহসী ও ফ্যাশনেবল সাজে গোলাপের মালা বা ফুলের মুকুট হতে পারে চমৎকার পছন্দ।

জারবারায় রঙের উচ্ছ্বাস

জমকালো সাজের সঙ্গে চুলে জারবারা অনেকটা মানিয়ে যায়। বড় আকারের এই ফুল একাই চুলের সাজে এনে দিতে পারে নজরকাড়া পরিবর্তন। হলুদ পোশাকের সঙ্গে হলুদ, কমলা বা ম্যাজেন্টা জারবারা চলতে পারে। খোলা চুলের এক পাশে একটি বড় জারবারা কিংবা পেছনে বাঁধা চুলের ওপর কয়েকটি ছোট জারবারা বসিয়ে নিতে পারেন। বেণির সঙ্গে জারবারা ও ছোট পুঁতির মালা জড়িয়ে নিলে পারেন।  কিংবা চুল পিছনে টুইষ্ট করে বেঁধে তার মাঝখানে ছোট ছোট জারবেরা আটকে দিতে পারেন।

চন্দ্রমল্লিকায় স্নিগ্ধতা

সাজের স্নিগ্ধতা ধরে রাখতে চুলে পরতে পারেন  চন্দ্রমল্লিকা । সাদা চন্দ্রমল্লিকার ছোট রিং খোলা চুলে কিংবা ঢিলেঢালা বেণিতে ব্যবহার করলে তৈরি হয় কোমল ও স্নিগ্ধ লুক। সামনের চুল সামান্য টুইস্ট করে পেছনে নিয়ে সেখানে কয়েকটি চন্দ্রমল্লিকা গুঁজে দিতে পারেন। আবার খোঁপার চারপাশে ছোট ছোট ফুল বসিয়েও সাজতে পারেন।

জিপসিতে হালকা সৌন্দর্য

ছোট ছোট সাদা জিপসি ফুল অন্য যেকোনো ফুলের সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। গোলাপ, জারবারা কিংবা অন্য কোনো বড় ফুলের সঙ্গে জিপসি পরতে পারেন । শুধু জিপসি সিঁথির দুই পাশের চুল টুইস্ট করে সেখানে ছোট ফুল গুঁজে নিতে পারেন। খোলা চুলে হালকা কার্লের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে জিপসি অন্যরকম লুক তৈরি করবে।

কাঠগোলাপে মায়াময়তা

সাদা পাপড়ি আর হলুদ কেন্দ্রের কাঠগোলাপ চুলের সাজে অনবদ্য। একরংয়ের সুতি শাড়ির সঙ্গে খোঁপায় দু-একটি কাঠগোলাপের সৌন্দর্য আলাদা করে চোখে পড়ে। সামনের চুল হালকা করে পেছনে বেঁধে সেখানে কয়েকটি কাঠগোলাপ পরতে পারেন। স্বল্প সমযৈর জন্য এই ফুল ভালো মানাবে।

পলাশ-অর্কিডে অনন্য

ফুলের সাজ মানেই শুধু গোলাপ, জারবারা বা বেলি নয়। আগুনরাঙা পলাশ অর্কিড ও চুলের সাজে দারুণ মানায়। খোঁপায় কয়েকটি পলাশ গুঁজে নিলে সাজে আসে প্রাণবন্ততা। আবার অর্কিডের মতো অভিজাত ফুল খোলা চুলে এক পাশে লাগিয়ে নিলে পাওয়া যায় আধুনিক লুক। কনকচাঁপা, মাধবীলতা কিংবা ছোট বনফুল দিয়েও করা যায় ব্যতিক্রমী কেশসজ্জা।

ফুলের সাজের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর স্বাভাবিকতা। তাই ফুল পরার ক্ষেত্রে খুব বেশি নিয়মের প্রয়োজন নেই। পোশাক, অনুষ্ঠান ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের মতো করে ফুল বেছে নিন। কখনো একটি ফুলই যথেষ্ট, আবার কখনো কয়েকটি ফুলের সমন্বয়ে তৈরি হতে পারে অনন্য কেশসজ্জা। বসন্তের রঙিন দিনে তাই চুলে একটু ফুলের ছোঁয়া—সাজকে শুধু সুন্দরই করে না, প্রকৃতির কাছেও নিয়ে যায়।

ছবি: নাজিফা তুষির ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *